
ঈদ, পূজা কিংবা দীর্ঘ ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যান। আবার কেউ কেউ ছুটির অবসরে দেশের বিভিন্ন পর্যটনস্থানে ঘুরতে বের হন। যাতায়াতের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম খরচ ও স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে ট্রেন অনেকের পছন্দের বাহন। তবে উৎসবের মৌসুমে ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় অনেক যাত্রীকে।
বিশেষ করে ছুটির আগে টিকিটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক ট্রেনের আসন শেষ হয়ে যায়। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি টিকিট সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করেন। টিকিট কালোবাজারি রোধে যাত্রীর নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ব্যবহার করে টিকিট কেনার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা-সিলেট রুটে এ ব্যবস্থা চালুর কথা জানানো হয়েছে।
তবে যাত্রীদের জন্য ঘরে বসেই বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট অথবা ‘রেল সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কেনার সুবিধা রয়েছে। অনলাইনে টিকিট কাটতে হলে প্রথমে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে পছন্দের ট্রেনের টিকিট কেনা যাবে।
অনলাইনে ট্রেনের টিকিটের জন্য নিবন্ধন করবেন যেভাবে
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কিনতে প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ, সচল মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হতে পারে।
নিবন্ধনের ধাপগুলো হলো—
১. প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. ওয়েবসাইটে থাকা ‘Register’ অপশনে ক্লিক করুন।
৩. এরপর ‘Create an Account’ পেজে প্রবেশ করে নির্ধারিত ঘরে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন।
৪. জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বরসহ চাওয়া তথ্য সঠিকভাবে লিখুন।
৫. নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় মোবাইলে নিরাপত্তা কোড পাঠানো হলে সেটি নির্ধারিত ঘরে লিখুন।
৬. সব তথ্য যাচাই করে ‘Register’ বাটনে ক্লিক করুন। তথ্য সঠিক থাকলে নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার বার্তা দেখা যাবে।
যেভাবে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটবেন
নিবন্ধন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে টিকিট কেনা যাবে। এ জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
টিকিট কেনার ধাপগুলো হলো—
১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে লগইন করুন।
২. এরপর ‘Purchase Ticket’ অপশনে ক্লিক করুন।
৩. যাত্রার তারিখ, যাত্রা শুরুর স্টেশন, গন্তব্য স্টেশন, ট্রেন, আসনের শ্রেণি এবং প্রয়োজনীয় টিকিটের সংখ্যা নির্বাচন করুন।
৪. পরবর্তী পেজে নির্বাচিত ট্রেনের আসন খালি আছে কি না এবং টিকিটের মূল্য যাচাই করুন।
৫. পছন্দের ট্রেন ও আসন নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিত করুন।
৬. এরপর নির্ধারিত পেমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।
মনে রাখতে হবে, ট্রেনের আসন খালি থাকা এবং টিকিটের প্রাপ্যতা নির্ভর করবে যাত্রার তারিখ ও সংশ্লিষ্ট ট্রেনের ওপর।
টিকিটের মূল্য পরিশোধ করবেন যেভাবে
অনলাইনে টিকিট কেনার সময় ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত পেমেন্ট পদ্ধতি অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত ব্যাংক কার্ড বা অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা ব্যবহার করে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
পেমেন্ট সফল হলে ই-টিকিট সাধারণত নিবন্ধিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো হয়। পাশাপাশি ওয়েবসাইট বা অ্যাপের অ্যাকাউন্ট থেকেও টিকিটের তথ্য দেখা যেতে পারে।
টিকিট কেনার সময় যাত্রার তারিখ, ট্রেনের নাম, গন্তব্য, আসনের শ্রেণি ও যাত্রীর তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। ভুল তথ্য দিয়ে টিকিট কিনলে পরবর্তী সময়ে ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
ট্রেনে ভ্রমণের সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন
টিকিট কেনার পর ই-টিকিটের কপি সংরক্ষণ করে রাখুন। প্রয়োজনে সেটি প্রিন্ট করে সঙ্গে নিতে পারেন। ভ্রমণের সময় টিকিটের সঙ্গে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রযোজ্য পরিচয়পত্র রাখা ভালো, যাতে টিকিট যাচাইয়ের সময় কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।
প্রয়োজনে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেশনে ই-টিকিটের তথ্য দেখিয়ে মুদ্রিত টিকিট সংগ্রহের নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। তবে ভ্রমণের আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা ও টিকিটসংক্রান্ত নিয়মাবলি যাচাই করে নেওয়া উচিত।









