
লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগে ১৪ জেলেকে আটক করেছে মৎস্য বিভাগ ও কোস্ট গার্ড। এ সময় ২৬০ কেজি জাটকা ইলিশ, চারটি নৌকা ও ৮০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই জেলেকে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১১ জেলেকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত থেকে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
জেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি বাসসকে নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, সোমবার সকালে মতিরহাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মো. আরিফ হোসেন (৩০) ও মো. মাকসুদ হোসেনকে (২৯) সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মজুচৌধুরীহাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১১ জেলেকে মোট ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বাসসকে বলেন, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৪ জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় নৌকা, জাল ও জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়।
জব্দ করা জাটকা বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে রায়পুরে মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হন মৎস্য কর্মকর্তাসহ পাঁচজন। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
রায়পুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজ হাসনাইন বলেন, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে মুহূর্তের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টি নৌকা একত্র করে। তাঁদের নৌকায় আনুমানিক ১৩০ থেকে ১৪০ জন লোক ছিল। তাঁদের অনেকের হাতে অস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে কোস্ট গার্ডের চারটি স্পিডবোট যুক্ত হওয়ার পরও হামলাকারীদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযানকালে নদী থেকে বেশ কিছু অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য চার লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে নদী ও সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে তেঁতুলিয়া নদীতেও নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে মাছ ধরলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।









