
কুমিল্লার ১৮টি থানায় মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৩৬ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এ অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ১০৭ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১২৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবক ও জিম্মাদারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে অভিযানে অংশ নেয়।
বিশেষ করে কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার যেসব স্থানে উঠতি বয়সী কিশোর ও বখাটেদের আড্ডা এবং উৎপাত বেশি, সেসব স্থানকে অভিযানের আওতায় আনা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান শেষে আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ১০৭ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে, অপরাধের সত্যতা না পাওয়া এবং প্রাথমিকভাবে সতর্ক করার অংশ হিসেবে ১২৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের নিজ নিজ অভিভাবক ও জিম্মাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে কোনোভাবেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত এ ধরনের ঝটিকা ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অভিযানের নামে কোনো নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লায় যেকোনো মূল্যে মাদক, ছিনতাই ও কিশোর অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।










