
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো কুমিল্লা সফরে এসে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলোর বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর সফরের পথে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু এবং মসজিদ-মাদ্রাসার ইমামদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানীর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, দেশের প্রায় সাত হাজার মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিএনপি জনগণকে যে ওয়াদা দেয়, সরকারে এলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে।”
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছর দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই মানুষ গুম, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতো। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই দুঃশাসনের অবসান হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই গণতন্ত্র সহজে আসেনি। বহু মানুষ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, শহীদ হয়েছে, বুকের রক্ত দিয়েছে। সেই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বিশ্বের অনেক দেশ এগিয়ে গেলেও দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। এখন ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা ও নারী শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, “মা-বোনেরা যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন এবং ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
কুমিল্লার দীর্ঘদিনের দাবির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, “ইনশা আল্লাহ, কুমিল্লাবাসীর দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।”
পথসভায় গণপূর্তমন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন সভাপতিত্ব করেন। এতে আরও বক্তব্য দেন কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিক উর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম।
সভায় বক্তারা কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিমানবন্দর চালুর দাবির প্রতি জোর সমর্থন জানান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর কুমিল্লা সফরকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন এলাকায় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। পথে পথে হাজারো মানুষের ঢলে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।







