রবিবার ৯ আগস্ট, ২০২৬

ওজন কমানোর ওষুধে কমছে অ্যালকোহলের প্রতি আসক্তি!

লাইফস্টাইল ডেস্ক

Rising Cumilla - alcohol
ছবি: সংগৃহীত

ওজন কমানোর জনপ্রিয় ওষুধ ও ইনজেকশন ব্যবহারে শুধু শরীরের অতিরিক্ত মেদই কমছে না, অনেকের ক্ষেত্রে কমে যাচ্ছে মদ্যপানের আকাঙ্ক্ষাও। ব্যবহারকারীদের একাংশের এমন অভিজ্ঞতার পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে গবেষণা শুরু হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ওয়েলসের ৪৬ বছর বয়সী লিসা রিস গত এপ্রিল থেকে ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহার শুরু করেন। তার প্রধান লক্ষ্য ছিল কয়েক কেজি ওজন কমানো। কিন্তু ওষুধ ব্যবহারের পর তিনি লক্ষ্য করেন, আগের তুলনায় তার মদ্যপানের ইচ্ছা অনেকটাই কমে গেছে।

লিসা জানান, আগে আড্ডায় বসলে অনায়াসে দুই বোতল ওয়াইন পান করতেন। কিন্তু এখন দুই গ্লাসের পরই আর মদ পান করতে ইচ্ছা করে না। সপ্তাহে যেখানে আগে ৬ থেকে ৮ বোতল ওয়াইন পান করতেন, তা এখন অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী ওয়ারেন থমাস। জুনের মাঝামাঝি ওজন কমানোর ওষুধের প্রথম ডোজ নেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পরিবর্তনটি অনুভব করেন।

ওয়ারেনের ভাষায়, এখন তার আর মদের প্রতি কোনো টান অনুভূত হয় না। এমনকি দুই গ্লাস বিয়ার পান করার পরই মাথা হালকা ও ঝিমঝিম করে এবং আগের মতো মদ সহ্য করার ক্ষমতাও নেই বলে জানান তিনি।

মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেমে’ প্রভাব

ওজন কমানোর এসব ওষুধে সেমাগ্লুটাইড বা তিরজেপাটাইডের মতো উপাদান থাকে। এগুলো মানবদেহের স্বাভাবিক জিএলপি-১ হরমোনের অনুকরণে কাজ করে। এর ফলে ক্ষুধা কমে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি হয় এবং মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’-এও প্রভাব পড়ে।

গবেষকদের ধারণা, এই প্রভাবের কারণেই খাবারের পাশাপাশি অ্যালকোহলের মতো কিছু আনন্দদায়ক বা আসক্তিকর বিষয়ের প্রতিও মানুষের আকর্ষণ কমে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ক্রিশ্চিয়ান হেন্ডারশটের ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি ছোট আকারের গবেষণায় দেখা যায়, ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহার শুরুর পর অতিরিক্ত মদপানে অভ্যস্ত ব্যক্তিদের অ্যালকোহলের প্রতি আকাঙ্ক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো আনশুৎজের সাম্প্রতিক একটি গবেষণাতেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মদ খেলেই অস্বস্তি?

ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, এসব ওষুধ ব্যবহারের পর মদ পান করলে আগের তুলনায় বেশি বমি বমি ভাব হয়, দ্রুত মাতাল হয়ে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি হয় কিংবা পেটে অস্বাভাবিক ভারী লাগতে থাকে।

চিকিৎসকদের মতে, অ্যালকোহলে প্রচুর ক্যালরি থাকে। ফলে ওজন কমানোর সময় মদ্যপান কমে গেলে তা ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও পরোক্ষভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আসক্তি নিরাময়ে নতুন সম্ভাবনা?

বিজ্ঞানীদের একাংশের ধারণা, জিএলপি-১-ভিত্তিক এসব ওষুধ ভবিষ্যতে শুধু স্থূলতা বা ডায়াবেটিসের চিকিৎসাতেই নয়, বিভিন্ন ধরনের আসক্তি কমানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। মদ্যপানের পাশাপাশি ধূমপান এবং ওপিঅয়েডজাতীয় মাদকের প্রতি আসক্তি কমাতেও এগুলোর সম্ভাব্য কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা চলছে।

তবে আসক্তি নিরাময়ের নির্ভরযোগ্য ওষুধ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগে আরও বড় পরিসরে এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ছাড়া স্থূলতা বা ডায়াবেটিস নেই—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব ওষুধ কতটা নিরাপদ, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিরল হলেও অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বা প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি নিয়েও গবেষণা চলছে।

ফলে মদ্যপানের অভ্যাস কমে যাওয়ার বিষয়টি আশাব্যঞ্জক মনে হলেও, শুধু এই সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

আরও পড়ুন