
ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বর্তমানে অনেক মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। চাকরি, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, পারিবারিক সম্পর্ক কিংবা জীবনের নানা অনিশ্চয়তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে গিয়ে অনেকেই বর্তমানের স্বাভাবিক আনন্দ ও মানসিক প্রশান্তি হারিয়ে ফেলেন। তবে এমন উদ্বেগ কমাতে কার্যকর হতে পারে জাপানি জীবনযাপনের একটি প্রাচীন দর্শন।
জাপানের বহুল পরিচিত একটি প্রবাদ হলো ‘আশিতা ওয়া আশিতা নো কাজে গা ফুকু’, যার অর্থ—‘আগামীকালের হাওয়া, আগামীকালই বইবে।’ এই দর্শনের মূল বার্তা হলো, ভবিষ্যতের সমস্যা বা পরিস্থিতি যখন সামনে আসবে, তখনই তার মোকাবিলা করা উচিত। আগে থেকেই সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটির বড় একটি কারণ হলো অজানা ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা। ‘যদি এমন হয়’ বা ‘যদি তেমন হয়’—এ ধরনের নেতিবাচক ভাবনা মানুষকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। অথচ বাস্তবতা হলো, ভবিষ্যৎ সবসময় পরিবর্তনশীল। আজ যে বিষয়টি বড় সমস্যা মনে হচ্ছে, আগামীকাল তার সমাধানও মিলতে পারে। আবার নতুন কোনো সুযোগও তৈরি হতে পারে।
জাপানি এই দর্শন ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করতে নিরুৎসাহিত করে না। বরং এটি শেখায়, পরিকল্পনা থাকতে হবে, তবে সেই পরিকল্পনা যেন বর্তমানের মানসিক শান্তি নষ্ট না করে। কারণ, প্রকৃতির মতো জীবনও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। যেমন বাতাসের দিক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তেমনি জীবনের প্রতিটি ঘটনাও মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
এ দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া। যেসব বিষয় পরিবর্তন করা সম্ভব, সেগুলোর জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতে হবে। তবে যেসব ঘটনা এখনো ঘটেনি বা যা নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেগুলো নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা না করাই শ্রেয়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘদিন ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল-এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে উদ্বেগ, অনিদ্রা, মানসিক ক্লান্তি এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়া, বাস্তবতাকে গ্রহণ করা এবং ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধানের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, জীবনের সব অনিশ্চয়তাকে আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই অজানা ভবিষ্যতের ভয় নয়, বরং বর্তমানকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলাই হতে পারে মানসিক শান্তি ও সুস্থ জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি।










