মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬

ইতালির স্বপ্ন ভেঙে লিবিয়ায় বন্দি কুমিল্লার ৬ যুবক, মুক্তিপণ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Libya-Cumilla
ছবি: রাইজিং কুমিল্লা সম্পাদিত

ইতালিতে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে অবৈধ পথে দেশ ছাড়লেও শেষ পর্যন্ত লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে জিম্মি হয়েছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় যুবক। তাদের মুক্তির জন্য পরিবারের কাছে মোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে দালালচক্র। টাকা না পেয়ে চালানো হচ্ছে অমানুষিক নির্যাতন। সেই নির্যাতনের ভিডিও ও ভিডিও কল পাঠিয়ে বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

জিম্মি হওয়া যুবকরা হলেন উপজেলার দিশাবন্দ গ্রামের শাহাদাত হোসেন (২০), মানিকুল ইসলাম (২০), মো. সোহেল (২৭), তাজ মোহাম্মদ (২৫), ফয়সাল (২০) এবং বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান (২১)।

স্বজনরা জানান, সন্তানদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে তারা ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিশাবন্দ গ্রামের মানিকের মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রায় নয় মাস আগে একই গ্রামের কথিত দালাল সামছুল আলম যুবকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেন। পরে তাদের লিবিয়ায় নিয়ে একটি মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ছেলেকে ইতালি পাঠানোর আশ্বাসে সামছুল আলমকে ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু ইতালির বদলে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই অভিযোগ করেন মেহেদী হাসানের বাবা শাহআলম। তিনি জানান, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে ১৮ লাখ টাকা দিয়েছিলেন।

পরিবারগুলোর দাবি, লিবিয়ায় নেওয়ার পর প্রায় আট মাস যুবকদের একটি চক্র নিজেদের হেফাজতে রাখে। সম্প্রতি তাদের আরও বড় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত ২০ দিন ধরে একটি গোপন আস্তানায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। নির্যাতনের ভিডিও ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।

নির্যাতনের ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত দালাল সামছুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, লিবিয়ায় অবস্থানরত কথিত মূল দালাল মানিকও এখন আর ভুক্তভোগী পরিবারের ফোন রিসিভ করছেন না।

এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, অবৈধ পথে কারা, কীভাবে এবং কোন দালালের মাধ্যমে বিদেশে গেছেন, সে বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ বা তথ্য পেলে পুলিশ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, মানবপাচারের শিকার এসব যুবককে দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাদের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন