মঙ্গলবার ১৯ মে, ২০২৬

সাংবাদিক পরিচয়ে অনেক আ.লীগ নেতা নির্যাতনে জড়িত ছিলেন: তথ্যমন্ত্রী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

RisingCumilla - Zahir Uddin Swapon
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন/ছবি: সংগৃহীত

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মামলার মুখে পড়া সাংবাদিক পরিচয়ের অনেকেই আসলে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে মানুষের ওপর নির্যাতনে জড়িত ছিলেন। এখন তারা দায় এড়াতে ভুঁইফোড় গণমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সরকারের তিন মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের নামে হওয়া বিভিন্ন মামলা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “মামলার মুখে পড়াদের অনেকেই আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে মানুষের ওপর নির্যাতনে জড়িত ছিলেন এবং রক্ষা পেতে ভুঁইফোড় গণমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করছেন।”

তিনি জানান, এ বিষয়ে গঠিত হতে যাওয়া মিডিয়া কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর সরকার বিস্তারিত অবস্থান তুলে ধরবে।

সাংবাদিকদের নামে হয়রানিমূলক মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম দায়িত্বে থাকাকালে মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি কয়েক দফায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে তথ্য আহ্বান করে।

মন্ত্রী জানান, মোট ৯২ জন সাংবাদিক তাদের বিরুদ্ধে হওয়া হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছেন।

তিনি বলেন, “তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সব মামলার বাদী সরকার নয়। ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেও মামলা হয়েছে। আবার যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের অনেকের পেশাই সাংবাদিকতা নয়।”

তথ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পদধারী ছিলেন এবং নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ভুক্তভোগীরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে এসব ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ সময় সম্পাদক পরিষদের দেওয়া হয়রানিমূলক মামলার তালিকা প্রসঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলার তালিকা চেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সংবাদপত্রের বিধিবিধান, পাঠকের চাহিদা ও রাষ্ট্রীয় নিয়ম-কানুন মেনেই এই পেশা পরিচালিত হয়। কিন্তু বর্তমানে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের অরাজকতা বিরাজ করছে। এ কারণে গ্রহণযোগ্য নিয়ম-কানুন প্রয়োজন।”

তথ্যমন্ত্রী জানান, সরকার একটি মিডিয়া কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জুনের মধ্যে একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করে খসড়া প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল-কে আরও কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা তৈরি হতে পারে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন