সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি সরবরাহ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla -Bangladesh seeks US investment in waste-to-energy, water supply, and renewable energy.
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি সরবরাহ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ/ছবি: সংগৃহীত

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ। এসব খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে সহযোগিতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আশ্বস্ত করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান উপস্থিত ছিলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, বৈঠকটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও সরকারের নীতি, মন্ত্রণালয়ের গত ছয় মাসের কার্যক্রম এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা বিভিন্ন বিষয়ের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্বাগত জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পিপিপি মডেলে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ওয়াটার সাপ্লাই, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং রিনিউয়েবল এনার্জিতে পিপিপি মডেলে সহযোগিতার বিষয়ে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

মীর শাহে আলম জানান, পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সচিব পর্যায়ে বৈঠক করে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হতে পারে। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং অবস্থায় রয়েছে। এসব বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে এ ধরনের একটি চুক্তি হয়েছে। আগামী ১৮ থেকে ২০ মাসের মধ্যে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে ময়লা-আবর্জনা ব্যবহার করে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৈঠকে মূলত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো বাণিজ্য চুক্তি বা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়নি।

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে দুই সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, নতুন মন্ত্রী হিসেবে ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত সচিবালয়ে এসেছিলেন। এর ফাঁকে স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন নীতি, অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন