
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, দলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ ‘চেয়ারপারসন’ করার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, “আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে দলের চেয়ারপারসনের পদে অধিষ্ঠিত করা হবে।”
আগামী সংসদ নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে একটি ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সেটি ‘সর্বদলীয় সরকার’ হবে না। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘মবোক্রেসি’ বা গণ-উন্মাদনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর দেশে যে মবোক্রেসি শুরু হয়েছে, তা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়। আমাদের এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে প্রস্থান করেছেন বেগম খালেদা জিয়া।’ আগামীতে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ছিল খালেদা জিয়ার স্বপ্ন, সেটি গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন, যে সুযোগ পেয়েছি, তা কাজে লাগাই। গণতন্ত্র একদিনে হয় না, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি একদিনে গড়ে ওঠে না।
’ গণতান্ত্রিক সংসদ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল আরও জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা সিলেট থেকেই শুরু হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, ড. এনামুল হক, এম এ মালিক। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ দলটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।








