
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সদ্যবিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল এক আবেগঘন পরিবেশে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন।
আজ শুক্রবার (১৫ মে) জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে উপস্থিত সকলের কাছ থেকে বিদায় নেন তিনি। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি সবার কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
উপাচার্যকে কাঁদতে দেখে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরাও নিজেদের ধরে রাখতে পারেননি। অনেকেই ডুকরে কেঁদে ওঠেন। তাকে বিদায় জানাতে গিয়ে এক অভাবনীয় সংহতি দেখা যায় শিক্ষক ও স্থানীয় জনমানুষের মধ্যে। শত শত মানুষ তাকে ঘিরে ধরেন। সবাই একে একে স্যারের সাথে শেষবারের মতো করমর্দন ও কোলাকুলি করেন। দীর্ঘক্ষণ চলে এই বিদায় পর্ব।
শিক্ষার্থীরা জানান, ড. ইসমাইল কেবল একজন প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের বিপদে-আপদে পাশে থাকা এক বটবৃক্ষ। ক্যাম্পাসের স্বল্প সময়ে অনেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন তিনি দৃশ্যমান করে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আশপাশের মানুষের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
সবশেষে একটি সাধারণ গাড়িতে করে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময়ও অনেক শিক্ষার্থীকে গাড়ির পেছনে দেখা যায় এবং হাত নেড়ে বিদায় জানাতে দেখা যায়। নোবিপ্রবির ইতিহাসে কোনো উপাচার্যের এমন আবেগপূর্ণ বিদায় সচরাচর দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর) অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীকে নোবিপ্রবির উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।









