
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর থেকে শুরু হওয়া এ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি আমিরাবাদ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম চাঁদ কুমার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর থেকেই মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে দাউদকান্দি থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত ধীরগতির যান চলাচল শুরু হয়। পরে সেটি দীর্ঘ যানজটে রূপ নেয়। এতে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ব্যক্তিগত যানবাহনের যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় গৌরীপুরের একটি স্টেশনে বিপুলসংখ্যক যানবাহন গ্যাস নিতে ভিড় করে। মহাসড়কের এক পাশজুড়ে অপেক্ষমাণ যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় চট্টগ্রামমুখী লেনে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে ভোরের বৃষ্টিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী মো. সোহেল রানা বলেন, “কয়েক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে গেছে। কোথাও নামারও সুযোগ নেই। ছোট শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।”
একই বাসের চালক আব্দুল মান্নান বলেন, “রাস্তায় যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। গ্যাস নেওয়ার জন্য মহাসড়কের পাশে দীর্ঘ লাইন থাকায় একটি লেন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যানজট দ্রুত বাড়ছে এবং স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”
কুমিল্লার আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকার মাস্টার্স পাম্পের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত রাত থেকেই বিভিন্ন স্টেশনে গ্যাসের চাপ খুবই কম। কয়েকটি পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। যেসব পাম্পে গ্যাস সরবরাহ রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ তৈরি হয়েছে। গ্যাসের সংকট স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি হবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
দাউদকান্দি আমিরাবাদ হাইওয়ে থানার ওসি প্রেম চাঁদ কুমার বলেন, “ভোর থেকে বৃষ্টি এবং গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামমুখী লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। গ্যাস পাম্পে অপেক্ষমাণ যানবাহনের দীর্ঘ সারির কারণে মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।”
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, যানজট দ্রুত নিরসনে তারা মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে এবং চালকদের ধৈর্য ধরে ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।










