
কুমিল্লা শহরসহ জেলার ১৮টি থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৫৪ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ছয় ঘণ্টা জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ প্রতিটি থানা এলাকার যেসব স্থানে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানকে অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়।
অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন। ছয় ঘণ্টার অভিযানে মোট ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পরদিন গত ১৯ সেপ্টেম্বর লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যে ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ।
এরপর থেকেই কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলার ১৮ থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে না পারে, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ রোধে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










