
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও বিভিন্ন কৃষিপণ্যে এখনো আমদানিনির্ভরতা রয়েছে। তবে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না এবং তিন বছরের মধ্যে পাট বীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীতে ‘স্মার্ট কৃষিতে সরকারি বিনিয়োগ’ বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে সরকার ডাটাবেসভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারবেন এবং ভোক্তারাও সারা বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে কৃষিপণ্য কিনতে পারবেন।
তিনি জানান, কৃষকদের সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করতে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারা দেশে দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হবে। এসব সৌরবিদ্যুৎচালিত কোল্ড স্টোরেজ সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে, যেখানে ১৫ থেকে ২০ জন কৃষক একসঙ্গে তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পে এর সফলতা পাওয়া গেছে। ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হলে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের কাছে সময়মতো সঠিক তথ্য পৌঁছাতে তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি পেঁয়াজ, পেঁয়াজবীজ ও আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যেও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের মাটির অম্লতা কমিয়ে উর্বরতা বাড়াতে বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। মাটির পিএইচ মাত্রা উন্নত করা গেলে সার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমবে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া কৃষিতে ডিজেল ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার সেচযন্ত্র সৌরশক্তিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মানসুর আহমেদ এবং গবেষণা বিশ্লেষক জোনায়েদ সহল। এ সময় নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।









