শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬

শিক্ষার্থীরা শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের পেছনে না ছুটে, সৃজনশীল হোক: শিক্ষামন্ত্রী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Education Minister
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন /ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “আমরা চাই না আগামী দিনের ভবিষ্যৎ শুধু জিপিএ-৫ নামক সোনার হরিণের পেছনে ছুটে বেড়াক। তারা যেন খেলতে খেলতে শেখে, সৃজনশীল হয়ে ওঠে এবং বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত হয়।”

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে আনন্দময় ও সৃজনশীল শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাঠ্যক্রম ও সিলেবাসে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে অযথা অপেক্ষার শিকার না হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষাকে আরও আনন্দময় করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, পারিবারিক তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাদান নিশ্চিত হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই ইতোমধ্যে পরিমার্জন করা হয়েছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলাম ও সিলেবাস বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফল দুই মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশে ইতোমধ্যে ৫৩টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে, যা আগামী দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ হিসেবে আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

পাঠ্যপুস্তক বিতরণ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংশোধিত ও পরিমার্জিত নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা বই হাতে পায়।

কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন সিলেবাস ও কারিকুলাম এমনভাবে প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত কোচিংয়ের প্রয়োজন না হয়। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের বাইরে সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরও পড়ুন