বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্টুডেন্ট ভিসায় স্বামী-স্ত্রী-সন্তান নেওয়া বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। নতুন নীতি কার্যকর হলে স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা একই ভিসার আওতায় স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানকে সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টুডেন্ট ভিসার পাশাপাশি অস্থায়ী ভিসায় থাকা অভিবাসীদের ভিসা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করার পরিকল্পনা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক শিগগিরই এসব পরিবর্তনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন অভিবাসন নীতির বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

পরিকল্পিত পরিবর্তনের আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নিট অভিবাসীর সংখ্যা ৩ লাখ থেকে কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্যের নির্দিষ্ট কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পরিবার নেওয়ার সুযোগে আসছে পরিবর্তন

বর্তমান নিয়মে অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্বামী বা স্ত্রী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল সন্তানকে সঙ্গে নিতে পারেন। শিক্ষার্থীর জীবনসঙ্গীর জন্যও নির্দিষ্ট শর্তে কাজের সুযোগ রয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত নতুন নীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার এই সুবিধা আর থাকবে না।

অস্ট্রেলিয়া সরকার মূলত আবাসন সংকট ও অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ কমানোর লক্ষ্যেই অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মহামারির পর বেড়েছিল অভিবাসন

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারির বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের আগমনের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।

২০২৩ সালে দেশটির নিট অভিবাসন সর্বোচ্চ ৫ লাখ ১৮ হাজারে পৌঁছায়। পরের বছর তা কমে দাঁড়ায় ৪ লাখ ২৯ হাজারে।

২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ার নিট অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।

অভিবাসনবিরোধী অবস্থান জোরালো

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমানোর দাবি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সম্প্রতি কট্টর ডানপন্থি ওয়ান নেশন পার্টি স্থানীয় জনগণের ওপর চাপ কমানোর কথা উল্লেখ করে তিন বছরে সাময়িক অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

দলটি ‘অস্ট্রেলিয়া ফার্স্ট’ নীতির কথা তুলে ধরে অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন