মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬

ল্যাবে তৈরি দাঁত নিয়ে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা, ডেন্টাল চিকিৎসায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

লাইফস্টাইল ডেস্ক

Rising Cumilla -Implants And Fillings
ছবি: সংগৃহীত

দাঁত ক্ষয় বা হারিয়ে গেলে বর্তমানে সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা হলো ফিলিং, ক্রাউন কিংবা ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট। তবে অদূর ভবিষ্যতে এই ধারণাই বদলে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা এমন এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন, যার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দাঁত নিজেই পুনর্গঠিত হতে পারে কিংবা পরীক্ষাগারে (ল্যাবে) তৈরি নতুন দাঁত মানুষের মুখে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে।

গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে দাঁতের চিকিৎসায় শুরু হবে এক নতুন যুগ।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর স্টেম সেল অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিনের গবেষক হ্যানেলে রুওহোলা-বেকার জানান, পুনর্জননভিত্তিক (রিজেনারেটিভ) চিকিৎসা ব্যবহার করে এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে, যাতে কৃত্রিম ফিলিংয়ের পরিবর্তে দাঁতের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু কিংবা পুরো দাঁতই নতুন করে গজিয়ে উঠতে পারে।

তার ভাষায়, “মানুষ দাঁতের চিকিৎসায় আরও কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাঁত শুধু খাবার চিবানোর জন্য নয়, এটি শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। মাড়ির সংক্রমণ থেকে হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এমনকি আলঝেইমার রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এছাড়া দাঁত হারালে পুষ্টিহীনতা, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি এবং মানসিক সমস্যার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

বর্তমানে ব্যবহৃত ফিলিং সাধারণত ৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে। এরপর অনেক ক্ষেত্রেই পুনরায় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তাই গবেষকদের লক্ষ্য এমন প্রযুক্তি তৈরি করা, যাতে দাঁত নিজেই নিজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠন করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের রিজেনারেটিভ ডেন্টিস্ট্রির পরিচালক আনা অ্যাঞ্জেলোভা ভলপোনি বলেন, ল্যাবে তৈরি সম্পূর্ণ দাঁত ভবিষ্যতে ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টের তুলনায় আরও টেকসই ও কার্যকর সমাধান হতে পারে। কারণ এতে থাকবে প্রাকৃতিক দাঁতের মতো জীবন্ত টিস্যু ও স্নায়ু।

এ লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা স্টেম সেলের সাহায্যে এনামেল ও ডেন্টিন তৈরির কোষ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এসব কোষ একত্র করে পরীক্ষাগারে তৈরি করা হয়েছে ‘টুথ অর্গানয়েড’, যা স্বাভাবিকভাবে এনামেল তৈরির প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘জীবন্ত ফিলিং’ কিংবা সম্পূর্ণ নতুন দাঁত তৈরি করা সম্ভব হতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকরা।

তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণাগার পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

তারপরও গবেষকদের বিশ্বাস, নিরাপদ ও কার্যকর এই পুনর্জননভিত্তিক প্রযুক্তি একসময় বাস্তবে রূপ নেবে এবং দাঁত হারানোর প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

 

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন