শুক্রবার ২ অক্টোবর, ২০২৬

‘ভেতরে জিন আছে’—গুজবে কুমিল্লা ইপিজেডে শ্রমিকদের ছোটাছুটি

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Rumors of a jinn inside- spark panic among workers at Comilla EPZ.
‘ভেতরে জিন আছে’—গুজবে কুমিল্লা ইপিজেডে শ্রমিকদের ছোটাছুটি/ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) একটি পোশাক কারখানায় ‘জিন-পেত্নী’ থাকার গুজবকে কেন্দ্র করে নারী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকালে কয়েকজন শ্রমিক চিৎকার করতে করতে কারখানা থেকে বের হয়ে ছোটাছুটি করেন। পরে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন নারী শ্রমিক চিৎকার করতে করতে কারখানা থেকে বের হয়ে দৌড়াচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ কারখানার ভেতরে ‘জিন-পেত্নী’ রয়েছে বলে অন্য শ্রমিকদের সতর্ক করছেন। একপর্যায়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আরও অনেক শ্রমিক কারখানা থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এসকে আজাদ নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি ইপিজেডের ভেতর থেকে শতাধিক নারীকে ‘ভেতরে জিন আছে’ বলে চিৎকার করতে করতে বের হতে দেখেছেন। পরে এক শ্রমিকও তাকে বিষয়টি সত্য বলে দাবি করেন।

রুবেল হোসাইন নামের এক শ্রমিক বলেন, কয়েকজন শ্রমিক চিৎকার শুরু করলে অন্যরাও ভয় পেয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে যান। তবে কারখানায় ‘জিনের আছড়’ হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

হালিমা আক্তার নামের এক নারী দাবি করেন, কিছুদিন আগে কুমিল্লার চর্থা এলাকায় এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ব্যক্তির শরীরের পিঠ ও হাতে অসংখ্য দাগ ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ইপিজেডের বর্তমান আতঙ্কের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে তানজিনা নামের এক নারী দাবি করেন, আতঙ্কের ঘটনায় তিন নারীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সপ্তম তলার একটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের আচরণ অস্বাভাবিক ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা ইপিজেড কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইপিজেডে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তাদের বড় একটি অংশ নারী।

তবে সংশ্লিষ্ট কারখানায় ‘জিন বা পেত্নী’ থাকার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি গুজব নাকি অন্য কোনো কারণে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে ব্র্যান্ডিক্স কোম্পানির ব্যবস্থাপক শাহজাহানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা যাচাই ছাড়া এসব দাবিকে সত্য হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন