শুক্রবার ২ অক্টোবর, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর মহাশ্মশানে পূজায় বাধা ও ভয়ভীতির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

সঞ্জয় শীল, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Rising Cumilla - Allegations of obstruction and intimidation during worship at Nabinagar Mahashmashan, police investigating.
নবীনগর মহাশ্মশানে পূজায় বাধা ও ভয়ভীতির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ/

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বুড়ী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত শতবর্ষী নবীনগর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে পূজায় বাধা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে মাদকাসক্ত যুবককে গাঁজা খেতে না দেওয়ায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ বিষয়ে ঘটনার সময়ে উপস্থিত স্থানিয় একজন সংবাদকর্মী ও বাউল সাধক রুহেল সরকার তাৎক্ষণিক ৯৯৯ – এ ফোন দিলে কৃর্তপক্ষে দ্রুত নবীনগর থানায় হট লাইনে যোগাযোগ করালে নবীনগর থানার কর্মকর্তা থানায় এসে অভিযোগ দিতে বলেন।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকেল বেলা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্মশানের আশেপাশে, নদীর তীরের রাস্তা ও কবরস্থানের কাঁচা রাস্তার দেয়ালের আবডালে স্থানিয় কয়েকজন যুবকের আনাগোনা থাকে। সেখানে মাদক সেবনের ঘটনাও ঘটে বলে তাদের দাবি। প্রাত্যতিক দিনের মতো সন্ধ্যায় শ্মশানে পূজা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া এবং প্রতিবাদ করলে গালাগালি, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেছেন তারা।
‎
‎স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে শ্মশানের ভেতর থেকে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ গজ বৈদ্যুতিক তার ও প্রায় ১২টি বাল্ব নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া শ্মশানে স্থাপিত মহাদেবের দুটি ত্রিশূলের একটি নিয়ে যাওয়া এবং অপরটি বাঁকিয়ে ফেলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শ্মশানে পূজা দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন পূজারি হরেন্দ্র বর্মন ও ধীরেন্দ্র বর্মন। তাদের অভিযোগ, কয়েকজন যুবক তাদের কাছে গাঁজা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের গালাগালি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
‎
‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে তাদের বলা হয়, ‘এখানে পূজা দিতে পারবে না, চলে যাও, না হলে অবস্থা খারাপ হবে।’ পরে ভয়ে পূজার সামগ্রী রেখে তারা শ্মশান থেকে চলে যান।
‎
‎ঘটনাটি শ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জানালে পূজা বন্ধ না করে পুনরায় শ্মশানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর পূজা দিতে গেলে শ্মশানের গেটে অভিযুক্ত যুবকদের দেখতে পেয়ে ভয়ে ফিরে আসেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
‎
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দা বলেন, তাদের সম্প্রদায়ের মানুষের শেষকৃত্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান এই মহাশ্মশান। সেখানে গিয়ে যদি ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে নিরাপদে পূজা ও ধর্মীয় আচার পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
‎
‎তাদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বললে বাড়িতে গিয়ে হামলা বা মারধরের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে চাইছেন না।
‎
‎এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী ফেসবুকে পোস্ট করলে নবীনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব সঞ্জয় সাহা তার ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘গুজব’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম জানান, ফেসবুকে বিষয়টি দেখে তিনি উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভয়ভীতি দেখিয়ে পূজা বন্ধ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিষয় নিয়ে যাচাই না করে মিথ্যা তথ্য ফেসবুকে প্রকাশের ক্ষেত্রেও সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
‎
‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎
‎নবীনগর কেন্দ্রীয় শ্মশান কমিটির সভাপতি সুবীর রঞ্জন সাহা জানান, শ্মশানে মাদক সেবনের দৃশ্য প্রতিদিনেই। মাদকসেবন নিয়ে হাতাহাতিও হয়।

‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নবীনগরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে মহাশ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হয়রানি ও ভয়ভীতি থেকে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন