রবিবার ৪ অক্টোবর, ২০২৬

ভারত-পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গড় আয়ু বেড়েছে বাংলাদেশিদের

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Life expectancy of Bangladeshis has surpassed that of Indians and Pakistanis
ছবি: এআই/রাইজিং কুমিল্লা সম্পাদিত

জীবন প্রত্যাশায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে জন্মের সময় প্রত্যাশিত গড় আয়ু ছিল ৭২ দশমিক ৭ বছর। একই সময়ে ভারতে ৭১ বছর এবং পাকিস্তানে ৬৮ দশমিক ২ বছর।

গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ডব্লিউএইচও প্রকাশিত নতুন তথ্যে এসব চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির ‘গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস’-এ ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের জীবন প্রত্যাশা, স্বাস্থ্যকর জীবন প্রত্যাশা, মৃত্যুর কারণ এবং রোগের বোঝার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর হিসাব অনুযায়ী, ভারতীয়দের তুলনায় বাংলাদেশিদের প্রত্যাশিত গড় আয়ু প্রায় ১ দশমিক ৭ বছর বেশি। আর পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের ব্যবধান ৪ দশমিক ৫ বছর।

তবে জীবন প্রত্যাশায় এগিয়ে থাকলেও উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গড় আয়ু ছিল ৭৮ দশমিক ৫ বছর এবং কানাডায় ৮১ দশমিক ৪ বছর। অর্থাৎ কানাডার তুলনায় বাংলাদেশের গড় আয়ু প্রায় ৮ দশমিক ৭ বছর কম।

শুধু দীর্ঘায়ু নয়, সুস্থ জীবনও গুরুত্বপূর্ণ

গড় আয়ু বাড়াকে জনস্বাস্থ্যের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও মানুষ সেই অতিরিক্ত বছরগুলো কতটা সুস্থভাবে কাটাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এখন শুধু আয়ু বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবন প্রত্যাশা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা ও অসংক্রামক রোগ বাড়ার কারণে মানুষ বেশি দিন বাঁচলেও জীবনের শেষদিকে অসুস্থ অবস্থায় কাটানো বছরের সংখ্যা বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাপীও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৩ সালে বিশ্বের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৩ বছর, যা ২০১৯ সালের ৭৩ দশমিক ৪ বছরের কাছাকাছি। তবে স্বাস্থ্যকর জীবন প্রত্যাশা ছিল ৬২ দশমিক ৮ বছর, যা ২০১৯ সালের তুলনায় এখনও শূন্য দশমিক ৪ বছর কম।

বাংলাদেশের সামনে অসংক্রামক রোগের চ্যালেঞ্জ

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রোগের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। সংক্রামক রোগের পাশাপাশি হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যানসার এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের মতো অসংক্রামক রোগ এখন বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠেছে।

ভারতের ক্ষেত্রেও এর স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০০০ সালে দেশটির শীর্ষ ১০টি মৃত্যুর কারণের মধ্যে সংক্রামক রোগের প্রাধান্য থাকলেও ২০২৩ সালে প্রায় ৭৫ শতাংশ মৃত্যুর সঙ্গে অসংক্রামক রোগ সম্পর্কিত ছিল।

বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের আয়ু বাড়ার সঙ্গে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা, ব্যবস্থাপনা এবং বয়স্কদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনও বাড়ছে।

মহামারির প্রভাব কাটিয়ে উঠছে বিশ্ব

ডব্লিউএইচওর তথ্যে দেখা যায়, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে জীবন প্রত্যাশায় যে ধাক্কা এসেছিল, তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু ৭৩ দশমিক ৩ বছরে পৌঁছেছে, যা মহামারির আগের সময়ের কাছাকাছি।

ডব্লিউএইচওর ডাটা বিভাগের প্রধান অ্যালাইন ল্যাবরিক বলেন, জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বেশি গড় আয়ু একটি বড় অর্জন। এখন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো মানুষ যেন সুস্থ শরীর নিয়ে আরও বেশি দিন বাঁচতে পারে।

শিশুমৃত্যু কমানো ও গড় আয়ু বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। তবে সামনে মানুষের দীর্ঘ জীবনকে আরও সুস্থ, কর্মক্ষম ও রোগমুক্ত রাখার চ্যালেঞ্জই জনস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন