বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ: ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠনের আহ্বান এমপি শ্যামলের

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Anti-drug rally in Brahmanbaria, MP Shyamal calls for forming ward-level committees.
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ: ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠনের আহ্বান এমপি শ্যামলের

মাদক নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ৮টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার কাজীপাড়া পৌর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা পুলিশের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল মাদক প্রতিরোধে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিটি মসজিদে ইমামদের মাধ্যমে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানো এবং মাদক কারবারীদের কোনো ধরনের আইনগত সহায়তা না দেওয়ার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সমাজে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের পেছনে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাই মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সংসদ সদস্য আরও জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের জন্য তিনি সরকারের কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, মাদক নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তিনি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন এবং মাদক স্পট, মাদকসেবী ও মাদক কারবারীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।

তিনি কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

পুলিশ সুপার জানান, মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য সরাসরি তাঁর সরকারি মোবাইল নম্বরে জানানো যাবে এবং তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। তিনি বলেন, জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক নির্মূলে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাদকসেবী ও মাদক কারবারীদের সমাজে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে তাদের বাসস্থানে লাল চিহ্ন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন র‍্যাব-৯ সিপিসি-১-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নূরনবী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাজেদুল হাসান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ জহিরুল হক খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ হাফিজুর রহমান মোল্লা (কচি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ।

এ ছাড়া জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন