
বিশ্ববাজারে উচ্চ সুদহারের প্রভাবের মধ্যে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে অর্থায়নের ব্যয় কমাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদী বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো কত সর্বোচ্চ সুদ ও চার্জ নিতে পারবে, তার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রোববার (১০ মে) জারি করা এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এখন থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ট্রেড ফাইন্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বেঞ্চমার্ক রেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে। নতুন এই নির্দেশনা ১১ মে থেকে কার্যকর হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদী বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে ‘অল-ইন-কস্ট’ বা সর্বমোট ব্যয় হিসেবে ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট বেঞ্চমার্ক রেটের সঙ্গে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত সুদ ও চার্জ নিতে পারবে। মার্কিন ডলারে ঋণের ক্ষেত্রে সোফর (SOFR) এবং ইউরোতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ইউরিবোর (EURIBOR) বেঞ্চমার্ক হিসেবে বিবেচিত হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি মার্কিন ডলারের জন্য সোফর হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ ও চার্জ নিতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই সর্বোচ্চ সীমা তিন ধরনের বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এগুলো হলো— স্বল্পমেয়াদী আমদানি বাণিজ্য অর্থায়ন, ইউসেন্স রফতানি বিল ডিসকাউন্টিং এবং ওপেন অ্যাকাউন্ট ট্রানজ্যাকশনের আওতায় রফতানির বিপরীতে অগ্রিম অর্থায়ন।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ‘অল-ইন-কস্ট’-এর আওতায় সুদ, কমিশন, ফি এবং সংশ্লিষ্ট অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই কাঠামোর লক্ষ্য হলো ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত মুনাফা বা উচ্চ মার্কআপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং দেশের বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রচলিত মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
তাদের মতে, নতুন এই উদ্যোগের ফলে আমদানিকারকরা উৎপাদন ব্যয় ও কাঁচামাল আমদানির খরচ সামাল দিতে কিছুটা স্বস্তি পাবেন। একই সঙ্গে রফতানিকারকরাও প্রি-শিপমেন্ট ও পোস্ট-শিপমেন্ট পর্যায়ে তুলনামূলক কম খরচে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়নের সুবিধা পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও বলেন, সুদ ও চার্জের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের ফলে বাণিজ্য অর্থায়নে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে সুদের হারের অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ঋণ ব্যয়ের ঝুঁকিও কমবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদ ও চার্জের সীমা নির্ধারণ করে নির্দেশনা জারি করেছিল। নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে সেই নির্দেশনার পরিবর্তে সংশোধিত কাঠামো কার্যকর করা হলো।









