
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের বানিয়াচং মোড় থেকে দীর্ঘসাইর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে জমে যায় কাদা-পানি। খানাখন্দে ভরা পথ দেখে বোঝার উপায় থাকে না—এটি সড়ক, নাকি নদী!
২০০৯ সালে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীনের তৃতীয় অ্যালবাম ‘বন্ধ জানালা’-এর জনপ্রিয় গান ছিল ‘রাস্তা মানে অবারিত নদী’। তুহিনের কণ্ঠে ছড়িয়ে পড়া সেই গানের কথাই যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে বানিয়াচং মোড় থেকে দীর্ঘসাইর সড়কে। বৃষ্টি হলেই সড়কটি পরিণত হয় কাদা-পানির এক দুর্ভোগের পথে।
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক নর্দমার পানিতে তলিয়ে যায়। এতে প্রতিদিন এই পথ ব্যবহারকারী হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, নারী, শিশু ও সাধারণ পথচারীরা।
সড়কের খানাখন্দ ও কাদা-পানির কারণে ছোট যানবাহন চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। অনেক সময় অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন কাদায় আটকে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মিয়া বলেন, “আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। সবাই শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েই শেষ।”
মানিক দাস বলেন, “বৃষ্টি হলে আমাদের খুব খারাপ অবস্থা হয়। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। দ্রুত রাস্তাটি ঠিক না করলে এটি খালে পরিণত হবে।”
পরান আহমেদ বলেন, “নতুন কেউ এখানে এলে রাস্তাকে খাল মনে করবে।”
অটোরিকশাচালক সিদ্দিক বেপারী বলেন, “গাড়ি চালাইতে পারি না। অবস্থা খুব খারাপ।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের অভাবে এমন দুরবস্থায় পড়ে থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
জনদুর্ভোগ দ্রুত লাঘব করতে বানিয়াচং মোড় থেকে দীর্ঘসাইর পর্যন্ত সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) সুদৃষ্টি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, দ্রুত সড়কটির সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী, পরিবহনচালকসহ সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে এবং স্বাভাবিক হবে যাতায়াত ব্যবস্থা।










