শুক্রবার ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

নবীনগরে ‘বি স্ট্রং’ প্রকল্পের বীজ প্রযুক্তি গ্রাম মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

সঞ্জয় শীল, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

নবীনগরে ‘বি স্ট্রং’ প্রকল্পের বীজ প্রযুক্তি গ্রাম মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
নবীনগরে ‘বি স্ট্রং’ প্রকল্পের বীজ প্রযুক্তি গ্রাম মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত/ছবি: প্রতিনিধি

বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রজেক্ট (বি স্ট্রং)-এর আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিম ইউনিয়নে বীজ প্রযুক্তি গ্রাম প্রদর্শনীর ওপর এক বর্ণাঢ্য মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শতাধিক কৃষকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: জাহাঙ্গীর আলম লিটনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (ক্রপস উইং) কৃষিবিদ ড. সালমা লাইজু।

মাঠ দিবসে বক্তারা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নতমানের বীজ উৎপাদন এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনায় ড. সালমা লাইজু বলেন, “বি স্ট্রং” প্রকল্প কৃষকদের জলবায়ু সহনশীল ও লাভজনক কৃষি ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বীজ বাছাই করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সম্প্রসারণ করলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

প্রকল্পের আওতায় ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে মোট ২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফসলের বীজ উৎপাদন ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান, ৩ বিঘা গম, ৩ বিঘা সরিষা, ৩ বিঘা মাসকালাই এবং ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন।

মাঠ দিবসে কৃষকদের হাতে-কলমে বিভিন্ন ফসলের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নত বীজ উৎপাদন কৌশল, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, রোগ-বালাই দমন এবং ফলন বৃদ্ধির প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। কৃষকরা এসব প্রযুক্তি সরাসরি দেখে ও শিখে নিজেদের খামারে প্রয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এসময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, এই ধরনের প্রযুক্তি গ্রাম প্রদর্শনী কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্ভাবনী ধারণা ছড়িয়ে দিতে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি অফিসার গিয়াস উদ্দিন নাঈম, উপসহকারী কৃষি অফিসার ইকরামুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের সাথে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যা মাঠ দিবসকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

আরও পড়ুন