শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬

‘দাড়ি নবীর সুন্নত’, কটাক্ষ করার এখতিয়ার কারও নেই: সংসদে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - The beard is the Prophets Sunnah, no one has the right to mock it - MP Monirul Haque Chowdhury in Parliament.
সংসদে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী/ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে নিজের দাড়ি ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ ঘটনায় নিজের দলেরই এক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে বিচার দাবি করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বিগত একটি অধিবেশনের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, বাজেট বক্তৃতার প্রথম দিন একটি গল্পকে কেন্দ্র করে স্পিকারের আসন থেকে তার বক্তব্যের কিছু অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা স্পিকারের এখতিয়ার হলেও কোন শব্দ অসংসদীয় ছিল, তা জানার অধিকার সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি সেটা জানতে পারিনি। এ বিষয়ে আমি ৩০০ বিধিতে নোটিশ দিয়েছিলাম।’

মনিরুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, ওই দিন নামাজের বিরতির পর তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়। তার ভাষ্য, একজন সংসদ সদস্য তাকে ‘মানবতাবিরোধী আচরণকারী’ ও ‘বর্ণবৈষম্যবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, ‘স্পিকার, এটা আমার দলেরই এক সদস্য বলেছেন। তিনি বলেছেন—“নীল নদের পানি যেমন নীল হয় না, তেমনি সকলে দাড়ি রাখলেই নাকি মুসলমান হয় না।”’

এ বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সম্মানে আঘাত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করা হয়েছে, আমার ইজ্জতে আঘাত করা হয়েছে। দাড়ি কারও ব্যক্তিগত ব্যাপার না, দাড়ি নবীর সুন্নত। এটা নিয়ে কটাক্ষ করার এখতিয়ার এই সংসদে কেন, বাইরেরও কাউকে দেওয়া হয়নি। আমি এর বিচার চাই।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই দিন সংসদের ডেকোরাম ভেঙে তার দলসহ কয়েকজন সদস্য তার দাড়ি নিয়ে কটাক্ষ করলেও তার পক্ষে যারা বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন, তাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

নিজের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের মর্যাদার বিষয়টি উল্লেখ করে স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক জবাব দাবি করেন মনিরুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই না, আমি বললে হাউজ আরও গরম হতে পারে বলে সবাই মনে করে। কিন্তু আমার ইজ্জতের খাতিরে, সংসদের ইজ্জতের খাতিরে এবং প্রবীণতার ইজ্জতের খাতিরে আমাকে বলতে হবে, আমি কোন অসংসদীয় শব্দটি বলেছিলাম।’

তিনি জানান, এ বিষয়ে ৩০০ ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এর আনুষ্ঠানিক জবাব প্রত্যাশা করছেন।

আরও পড়ুন