
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের পার্ক ও খেলার মাঠ দখলদার, হকার ও মাদকসেবীদের কবল থেকে পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত এক নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের পার্ক ও খেলার মাঠে মাদক কারবার, হকারদের দখল এবং বখাটেদের আড্ডা বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়ে নোটিশটি উত্থাপন করেন।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে অনেক খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দখল করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেগুলো উদ্ধার করে খেলার উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানগুলো উদ্ধার এবং জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন অধিকাংশ পার্ক ও খেলার মাঠ একসময় বেদখল ছিল। বর্তমানে সেগুলো পুনরুদ্ধার করে উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে। গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্ককে ভবঘুরে ও ভাসমান হকারমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব পার্কে রূপান্তর করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য সংস্থার মালিকানাধীন ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ উদ্ধার ও সংস্কার করে পর্যায়ক্রমে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে। এর মধ্যে মালিটোলা পার্ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, যাত্রাবাড়ী শিশু পার্ক, রসুলবাগ পার্ক এবং জোড়পুকুর খেলার মাঠের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ওসমানী উদ্যানসহ আরও কয়েকটি স্থানের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৩৮টি পার্ক ও মাঠ আধুনিকায়ন করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এসব স্থাপনা দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে একটি করে খেলার মাঠ ও পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। বর্তমানে পাঁচটির কাজ চলমান রয়েছে এবং একটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আরও ১২টি প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে।
এ ছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন পার্কে নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরেও একই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
খেলাধুলার প্রসারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মাঠভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডও অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদক সমস্যা বর্তমানে জাতীয় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুবসমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দেশজুড়ে খেলাধুলার কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।








