
দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে ব্যাপক পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে নতুন কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্ডলাইন নির্মিত হলে বর্তমানে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ সংকুচিত হয়ে প্রায় ২৪০ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এর ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে ট্রেন চলাচলের সময় বর্তমান প্রায় পাঁচ ঘণ্টা থেকে কমে সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে পারে।
তিনি জানান, সরকার দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পাশাপাশি সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোর সঙ্গে রেল সংযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে। একই সঙ্গে আধুনিক লোকোমোটিভ, ক্যারেজ ও ওয়াগন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে রেলপথে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন, উচ্চগতির রেল সংযোগ, ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন এবং আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কোচ ও লোকোমোটিভ সংযোজন কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রেন দ্রুততম সময়ে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পৌঁছাতে পারবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-ফেনী-কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ভৈরব-নরসিংদী রেলপথ ব্যবহার করে পণ্যবাহী ট্রেনগুলো সরাসরি ধীরাশ্রম আইসিডির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এতে দেশের বাণিজ্য, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।









