
দেশজুড়ে চাকরিপ্রার্থী ও কর্মসংস্থানের সুযোগের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা ‘কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মেধাভিত্তিক ও ন্যায্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষতার ঘাটতি দূর করে স্থানীয় পর্যায়ে চাকরির সুযোগ বাড়াতে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঘোষিত এই উদ্যোগকে দেশের কর্মসংস্থান খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের বৃহত্তর অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদা ও চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতার মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করবে।
প্রস্তাবিত কেন্দ্রগুলোতে নিবন্ধিত চাকরিপ্রার্থীরা তাদের মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের তথ্য ও নিয়োগ-সহায়তা পাবেন। একই সঙ্গে প্রার্থীদের দক্ষতা মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পাঠানো হবে, যাতে তারা কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘কাজ করব, দেশ গড়ব’—এই নীতির ভিত্তিতে খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দেশব্যাপী নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে প্রতিটি পরিবারের সমৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ন্যায্য ও মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করা হবে। এখানে নিবন্ধিত প্রার্থীদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু চাকরির তথ্য সরবরাহ নয়, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গেও এই কর্মসূচিকে যুক্ত করা হবে। ফলে কোনো প্রার্থীর প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে তাকে সংশ্লিষ্ট কারিগরি বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে, যাতে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি কর্মসংস্থানের জন্য আরও উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারেন।
সরকার ইতোমধ্যে এ কর্মসূচির নীতিগত কাঠামো ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সেবা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুধু শহর নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও যাতে কর্মসংস্থান সেবা পান, সে লক্ষ্যেই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই কেন্দ্রগুলো গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, গৃহিণী, তরুণ-তরুণী এবং দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকা ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাজেটে ঘোষিত বৃহত্তর কর্মসংস্থান পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতিবছর দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফ্রিল্যান্সিং ও সৃজনশীল শিল্পে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও আট লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার একটি স্টার্টআপ তহবিল গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে দেশের জনমিতিক সুফলকে কাজে লাগিয়ে একটি মেধাভিত্তিক ও টেকসই শ্রমবাজার গড়ে তোলার পথও সুগম হবে।










