
দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণে জুন-আগস্ট ২০২৬ মেয়াদের জন্য ১১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৩৩ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ-সংক্রান্ত চারটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে চারটি প্যাকেজে বিভক্ত করে জ্বালানি তেল আমদানির কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর আওতায় গ্যাস অয়েল, জেট এ-১, ফার্নেস অয়েল এবং গ্যাসোলিন-৯৫ আমদানি করা হবে।
পিজি-০১ প্যাকেজের আওতায় সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস অয়েল (০.০০৫% ‘এস’) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-১ রয়েছে।
এই আমদানিতে ব্যয় হবে ৬২ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
পিজি-০২ প্যাকেজের সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুর ৪ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে।
এর মধ্যে ৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস অয়েল এবং ৮০ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-১ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ বাবদ ব্যয় হবে প্রায় ৬ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
ফার্নেস অয়েল আমদানির জন্য পিজি-০৩ প্যাকেজে নির্বাচিত হয়েছে ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুর। প্রতিষ্ঠানটি ২ লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করবে।
এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি ৫ লাখ টাকা।
গ্যাসোলিন-৯৫ আমদানির জন্য পিজি-০৪ প্যাকেজে নির্বাচিত হয়েছে ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন-৯৫ সরবরাহ করবে।
এ জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৭৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
সরকারি সূত্র জানায়, জানুয়ারি-জুন ২০২৬ সময়ের তুলনায় জুন-আগস্ট ২০২৬ মেয়াদে জ্বালানি তেলের আমদানিতে প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর মধ্যে গ্যাস অয়েলের প্রিমিয়াম প্রায় ৬৪ শতাংশ, জেট এ-১-এর প্রিমিয়াম প্রায় ৫৪ শতাংশ, ফার্নেস অয়েলের প্রিমিয়াম ৪৫ শতাংশ এবং গ্যাসোলিন-৯৫-এর প্রিমিয়াম প্রায় ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
সরকারের আশা, অনুমোদিত এ আমদানির মাধ্যমে আগামী কয়েক মাস দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণ করা সম্ভব হবে।










