
রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণের বিশ্বাস—এই মন্তব্য করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনারদের উদ্দেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন কেবল আইন প্রয়োগকারী কোনো যন্ত্র নয়, বরং এটি মানুষের সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি আশ্বাস দেন, প্রশাসনের যেকোনো আইনগত ও মানবিক উদ্যোগে সরকার সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগাতে পারলে তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হবে।
“আমাদের সমস্যা অনেক, তবে সম্ভাবনাও কম নয়। তরুণরাই বদলে দিতে পারে বাংলাদেশকে”—বলেন তিনি।
মাঠ পর্যায়ের প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ এবং পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “একটি পরিবার রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষুদ্র ইউনিট। অসংখ্য পরিবারের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি রাষ্ট্র। তাই পরিবারে মূল্যবোধ থাকলে রাষ্ট্রেও তা সুসংহত হয়।”
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রশাসনের সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে গত ৩ মে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
সম্মেলন চলাকালে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে অংশ নেন।









