বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

চাকরির কথা বলে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ, দুই অভিযুক্ত গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাকরির কথা বলে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ, দুই অভিযুক্ত গ্রেফতার/ছবি : সংগৃহীত

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগে মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মিজানুর রহমান (৫৫) ও মো. আবু তাহের লেন্টু (৫০)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ফরিদপুরের নগরকান্দা ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক (পরিচালক) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।

এসআরবি জানায়, ভুক্তভোগী রাজন হোসেনকে (২১) নির্মাণকাজে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠান অভিযুক্তরা। গত ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর রাজনসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে রাজনকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়।

যুদ্ধে ড্রোন হামলায় রাজনের কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এতে তিনি দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে আহত অবস্থায় পালিয়ে গিয়ে দূতাবাসের সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট দেশে ফেরেন তিনি।

দেশে ফেরার পর ক্ষতিপূরণ দাবি করলে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান রাজনের পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন, তাঁদের মারধরের চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় রাজনের বাবা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেন।

মামলার তদন্ত ও অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার আটাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন এসআরবি-৬-এর একটি দল ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকা থেকে আবু তাহের লেন্টুকে গ্রেফতার করে।

সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই চক্রের মাধ্যমে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরে তাঁদের যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জন মারা গেছেন এবং দুজন পালিয়ে দেশে ফিরেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

ঘটনাটি বিদেশে চাকরির প্রলোভনে মানব পাচার এবং বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ সামনে এনেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও পুরো চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্তের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন