বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Journalist attacked while on duty in Cumilla Sadar South.
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা/ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুরের মিস্ত্রীপুকুর পাড় এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরে হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন—যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী সদস্য তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের কুমিল্লা ব্যুরো রিপোর্টার ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের তথ্যপ্রযুক্তি ও আপ্যায়ন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ।

সাংবাদিক তানভীর দীপু জানান, বুধবার দুপুরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য তারা লালমাইয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। পদুয়ার বাজার মোড়ে যানজট থাকায় উত্তর রামপুর বিদ্যুৎ অফিসের সামনের সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করেন তারা। এ সময় স্থানীয়দের তৈরি লোহার ব্যারিকেডের কারণে কয়েকটি গাড়ি আটকে গিয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

যানজটের কারণ জানতে সামনে এগিয়ে যান তানভীর দীপু। পরে লোহার ব্যারিকেডটি ওপরের দিকে ধরে একে একে গাড়ি বের হয়ে যেতে সহযোগিতা করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় শাওন নামে এক যুবক যানজট নিরসন ও মানুষের চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই যুবক তাকে ধাক্কা দেন।

পরে সহকর্মী আবদুল্লাহ আল মারুফ এগিয়ে এসে তানভীরকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। এ সময় ওই যুবক রড হাতে নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে আসেন। স্থানীয়রা তাকে সরিয়ে নিলে সাংবাদিকরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তানভীর দীপু বলেন, ‘আমরা আমাদের গন্তব্যের দিকে ফিরে যাচ্ছিলাম। এ সময় হঠাৎ পেছন থেকে এসে সে মারুফের ঘাড়ে আঘাত করে। এতে মারুফ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আমি তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ওই যুবক আমার ওপরও হামলা চালায়।’

হামলার শিকার সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মারুফ বলেন, ‘আমরা বুঝতেই পারিনি সে কেন হামলা করলো। লোহার ব্যারিকেডটি সরানোর কারণে হয়তো সে আমাদের ওপর হামলা করেছে। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন বলেন, ‘ছেলেটা খুবই উগ্র ছিল। সাংবাদিক শুনে সে আরও উগ্র হয়ে যায়। আমার সামনেই হঠাৎ করে তাদের পেছন থেকে হামলা করে। সংবাদকর্মীদের ওপর এমন হামলা আর দেখিনি।’

এদিকে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম। এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি বাহার রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির জীবন ফোরামের সব সদস্যের পক্ষে এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ বজায় রাখা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।

তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে কুমিল্লা প্রেসক্লাবও। প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, এ ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল হাসান বলেন, ‘এই ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমরা অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান শুরু করেছি।’

আরও পড়ুন