বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভাইদের প্রতারনার প্রতিবাদে বোনের সংবাদ সম্মেলন

সঞ্জয় শীল, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Rising Cumilla - Sister holds press conference in Brahmanbaria to protest brothers fraud
ছবি: প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সদরের নিমতলায় ভাই মো. বাশার আহম্মেদ ও তার স্ত্রী ফাহমিদা বেগম, মো. স্বপন মিয়ার প্রতারনা, হয়রানি, অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগা ভুক্তভোগী বোন সখিনা বেগম সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বুধবার ( ২৬ আগস্ট) সকালে ভুক্তভোগী সখিনা বেগম তার নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ, উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া ছাড়াও তিনি তার ভাই-ভাবিদের অত্যাচার-নির্যাতন, ভয় দেখানোর কথা উল্লেখ্য করেন।

সখিনা বেগম জানান, তার বড় ভাই মো. স্বপন মিয়া, মো. বাশার আহম্মেদ ও তার স্ত্রী ফাহমিদা বেগম মিলে তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি অন্যত্র পাওয়ার দিয়ে বিক্রি ও নগত অর্থ আত্মসাত করেন বলে উল্লেখ্য করেন।

তিনি আরও জানান, সাংবাদিক ভাই-বোনরা, আমি হতাশাগ্রস্ত। ভয় আর আশা নিয়ে আপনাদের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি নিরহ মানুষ, আমার স্বামী নেই। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আমাদের সংসার। এক তো আমাদের নগদ টাকা, কেনা সম্পদ আত্মসাৎ করেছে তার উপর নানা ভাবে আমাদের হয়রানি করে আসছে। আমি প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এখন পর্যন্ত সুনিশ্চিত কোনো ভরসা পাচ্ছি না। অভিযোগ করেও বিচার যেনো অনেক দিনের ব্যাপার। মনে হচ্ছে বেঁচে থাকতে আমি আমার প্রাপ্য পাবো না। এভাবে চলতে থাকলে এমনকি আমার নাতিপুতিরাও সমাধান পাবে না।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আমি আপনাদের মাধ্যমে নবীনগরের মাননীয় এমপি এডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মান্নান সাহেব, নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও স্যার, নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্যার, নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক ওসি স্যারসহ দেশের সকল সুনাগরিক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের আস্থাশীল মানুষ মাননীয় তারেক রহমান সাহেবের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছানোর তাগিদে আমি অসহায় বিধবা একজন নারী আপনাদের সহযোগিতা চাই৷ আমি আশা করি, সুরাহা হবে ইনশাআল্লাহ।

সখিনা বেগম আরও জানান,  প্রথমে পারিবারিক হওয়ায় লজ্জায় বলতে চাইনি পরে নিজের সম্পদ রক্ষা আর ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে অভিযোগ করি কিন্তু আমার আপন ভাই-বোনদের প্রভাবে আমি দিশেহারা। আমি কি ঘর সামলাবো নাকি আমার সম্পদ রক্ষার জন্য দৌড়াদৌড়ি করবো! আমার আব্বা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার ছোট ভাই বাশারকে ছোট থেকে কোলে পিঠে করে লালন পালন করেছি৷ বাশারের যাবতীয় খরচ আমি খরচ করেছি। আমার কাছে রেখে পড়াশোনা করিয়েছি৷ পড়াশোনা শেষ করে কোনো কিছুই করতে না পেরে আমার বেকার ভাই ১০-১৫ লক্ষ টাকার মতো বিভিন্ন কারনে ঋণ গ্রস্ত হয়ে পরে। আমাকে সে বলে আমি যাতে তাকে টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করি। ছোট ভাই হওয়ায় মায়ায় পড়ি।

ভুক্তভোগী জানান, আমার নিজেরও সংসার আছে৷ আমার স্বামী মারা গেছে৷ তাকে দিলে আমি খাবে কি? তার নামে পৈতৃক সম্পদ ছিলো ২ শতক। সে সেই সম্পদ বিক্রি করে দিয়ে ঋণ দিতে চাইলে আমি তাকে নগদ ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সেই জায়গা ক্রয় করি। এই টাকার বেশির ভাগ আমার এনজিও, সমিতি, ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া। এখনো আমি আমার ভাইয়ের কারনে ঋনের বুঝা টানছি। অথচ আমার ভাই, আমার সাথে প্রতারনা করে এই জায়গা অন্য আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। শুধু বিক্রি করে ক্ষান্ত হয়নি। আমাকে ও আমার ছেলে-মেয়েকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। বাইরে থেকে লোক এনে আমাদের শাসায়। আমরা এখন আতঙ্কিত। নিরাপত্তাহীনতা আছি।

আরও পড়ুন