শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬

কঙ্গোয় নতুন করে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে, জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Ebola virus
ছবি: এপি

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)-তে নতুন করে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

রোববার (১৭ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যদিও সংস্থাটি বলছে, পরিস্থিতি এখনও বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা এবং ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে এখনো “বিরাট অনিশ্চয়তা” রয়েছে।

স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানিয়েছে, এবারের সংক্রমণ ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাসের কারণে ঘটেছে। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। ইতোমধ্যে আটটি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া ছাড়াও স্বর্ণখনি এলাকা মংগওয়ালু ও রওয়াম্পারায় বহু সন্দেহভাজন রোগী ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ভাইরাসটি সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে দুটি নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে।

উগান্ডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মারা যাওয়া ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ডিআর কঙ্গোর আশপাশের দেশগুলো বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ সীমান্ত এলাকায় মানুষের চলাচল, বাণিজ্য ও ভ্রমণ অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডাকে জরুরি অপারেশন সেন্টার চালুর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি আরও বলেছে, আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত আলাদা করে চিকিৎসাসেবা দিতে হবে এবং অন্তত ৪৮ ঘণ্টা ব্যবধানে করা দুটি পরীক্ষার ফল নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে স্বাস্থ্য নজরদারি ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে ডব্লিউএইচও স্পষ্ট করেছে, আক্রান্ত অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর সীমান্ত বন্ধ করা বা ভ্রমণ-বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজন নেই। সংস্থাটির মতে, এমন সিদ্ধান্ত সাধারণত আতঙ্ক থেকে নেওয়া হয় এবং এর পক্ষে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

উল্লেখ্য, ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডিআর কঙ্গো অঞ্চলে। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। দেশটিতে এটি এখন পর্যন্ত ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব।

ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল বা ক্ষতস্থানের সংস্পর্শে এ ভাইরাস ছড়ায়। প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে জ্বর, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, পেশীতে ব্যথা ও গলাব্যথা দেখা দেয়। পরবর্তীতে বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি এবং তীব্র রক্তক্ষরণ হতে পারে।

ডব্লিউএইচও’র তথ্যমতে, ইবোলা আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।

আরও পড়ুন