
ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করতে যাচ্ছে আন্তনগর ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস। আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে নতুন রুটে চলাচল করবে ট্রেনটি। একই সঙ্গে কার্যকর হবে এর নতুন সময়সূচি। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। এতে কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোটসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আবু বকর সিদ্দিক।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে মহানগর এক্সপ্রেসের নতুন রুটের প্রথম যাত্রার উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ট্রেনটি পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। পথে রাত ৩টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর রাত ৩টা ২০ মিনিটে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
ফিরতি পথে মহানগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। এরপর ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
কুমিল্লার যাত্রীদের জন্য বাড়তি সুবিধা
মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণের ফলে ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এতদিন ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস বিরতিহীন হওয়ায় মধ্যবর্তী এসব স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুবিধা পেতেন না। মহানগর এক্সপ্রেসের নতুন রুট চালু হলে বিশেষ করে কুমিল্লা অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য কক্সবাজার ভ্রমণ আরও সহজ হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই রেলসেবা চালুর ফলে কক্সবাজারগামী পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে। পাশাপাশি রেলওয়ের আয় বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রেনের আসন ও সাপ্তাহিক বন্ধ
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেসে থাকবে ১৬টি কোচ। ট্রেনটিতে আসনসংখ্যা হবে ৭০৬ থেকে ৭৩৬টি। প্রতি সপ্তাহের রবিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, নতুন রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর থেকে এই রুটের টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে।
নতুন এই পরিষেবা চালু হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের কক্সবাজার যাতায়াত আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সুবিধাজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।










