
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্মতারিখ ও বয়স সংশোধনের ক্ষমতা মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে নির্ধারিত শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতে নিজ নিজ এলাকার নির্বাচন অফিস থেকেই জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা যাবে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের ১২তম সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, এনআইডি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও নাগরিকবান্ধব করতে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে করার উদ্যোগও রয়েছে।
শিক্ষাগত সনদ দিয়ে বয়স সংশোধন
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের অনুমোদিত পাবলিক পরীক্ষার মূল সনদে থাকা জন্মতারিখের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা এনআইডির বয়স বা জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
এতে জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য নাগরিকদের কেন্দ্রীয় নির্বাচন অফিসে গিয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না। স্থানীয় পর্যায়েই আবেদন নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভোগান্তি ও অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ কমবে বলে আশা করছে ইসি।
যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে
জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—
- অনলাইন আবেদন কপি ও চালান ফি জমার রসিদ;
- শিক্ষা বোর্ডের জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের সনদ;
- ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ;
- প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়ক কাগজপত্র।
অনলাইনে হবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন
এক ভোটার এলাকা থেকে অন্য ভোটার এলাকায় নাম স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও শতভাগ অনলাইনে করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নতুন ব্যবস্থায় নাগরিকদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না। ঘরে বসেই অনলাইনে এ আবেদন করা যাবে। তবে এ সেবার জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হবে। নতুন বিধিমালায় এ ফি অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে ইসি।
১৫ বছর পর এনআইডি নবায়নে ‘ফ্যামিলি ট্রি’
জাতীয় পরিচয়পত্র আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর এনআইডি নবায়নের বিধান রয়েছে। নবায়নের সময় আবেদনকারীর মা-বাবা ও ভাই-বোনের বিস্তারিত তথ্যসহ ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক তথ্য জমা দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজে তথ্য যাচাই-বাছাই আরও নির্ভুল করা এবং ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরির সুযোগ বন্ধ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ সেবার ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হবে।
প্রবাসীদের এনআইডি নিবন্ধনেও সহজ হচ্ছে প্রক্রিয়া
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের এনআইডি ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নতুন ব্যবস্থায় প্রবাসী আবেদনকারীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের আইরিশসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি অনলাইনে আপলোডের ব্যবস্থা করা হবে। তদন্তে তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে কেন্দ্র থেকেই দ্রুত এনআইডি অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে।
ইসির মতে, এ প্রক্রিয়ায় একটি ধাপ কমে যাওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এনআইডি পাওয়ার সময়ও কমবে।
নির্বাচন কমিশনের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এনআইডি সংশোধন, ভোটার এলাকা পরিবর্তন, কার্ড নবায়ন এবং প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবায় নাগরিকদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে।










