
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানী ও মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যানজট নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৫-২৭ মে এবং ২৯-৩১ মে মোট ছয় দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপি জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর আনুমানিক এক কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করেন এবং প্রায় ৩০ লাখ মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করেন। ফলে সড়কে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত ছয় দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে পশুবাহী যানবাহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, পঁচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
এছাড়া রুট পারমিট ছাড়া কোনো বাস চলাচল করতে পারবে না। আন্তঃজেলা বাসগুলোকে নির্ধারিত টার্মিনাল থেকে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে এবং পথে যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না। অনুমোদিত কাউন্টার ছাড়া রাস্তা থেকে যাত্রী তোলা বা নামানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঈদযাত্রার বাড়তি চাপ সামাল দিতে আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ মে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক একমুখী করা হবে। এ সময়ে শুধুমাত্র ঢাকা থেকে বের হওয়া যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ঢাকামুখী যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
একইভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিআরটি প্রকল্পের এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুরমুখী লেনও একই সময়ে একমুখীভাবে পরিচালিত হবে। এই পথে শুধু ঢাকা ছাড়ার যানবাহন চলবে।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, যানজট কমাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বনানী থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, শ্যামলী থেকে গাবতলী পর্যন্ত মিরপুর রোড, ফুলবাড়িয়া থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়ক এবং আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ সড়ক।
কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনাতেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে ডিএমপি। হাটের নির্ধারিত সীমানার বাইরে সড়কের ওপর পশু কেনাবেচা, লোড-আনলোড কিংবা যানবাহন পার্কিং করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও জানানো হয়েছে।
ডিএমপি নগরবাসী, যানবাহনের মালিক-চালক এবং পশুর হাট সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়।







