
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. লুৎফর রহমান।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রাম এবং চাঁদপুর মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. হাবিবুর রহমান ওরফে সাজিদ ও হেদায়েত হুজুর (৪১) এবং মো. রকিবুল হাসান নয়ন ওরফে রাব্বী ও রাব্বী শরীফ (৩৬)।
পুলিশ জানায়, চাঁদপুর সদর মডেল থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি ও বিভিন্ন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রটির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে চাঁদপুর জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল কালিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে হাবিবুর রহমান এবং পরে রকিবুল হাসান নয়নকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, চক্রটি ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিত। এসব বিজ্ঞাপন দেখে আগ্রহী ক্রেতারা যোগাযোগ করলে পণ্য সরবরাহের কথা বলে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হতো। টাকা পাওয়ার পর আর পণ্য সরবরাহ করা হতো না।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রেপ্তার দুজনের দীর্ঘদিন ধরে সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজনসহ পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে অপরিচিত ব্যক্তি বা ফেসবুক পেজে লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।









