শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬

‘আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না’— কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla -I hold a government job
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে একযোগে বদলির প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে ‘কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বদলি হওয়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিন উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। চাকরি রক্ষার স্বার্থে তিনি হাতজোড় করে শিক্ষার্থীদের কাছে আবেদন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ব্যানারও তিনি সরিয়ে নিতে দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়,  “আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না।”। এটা শুধু আমার না, আমার পুরো পরিবারের বাঁচার অবলম্বন।”

একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, “এটা আমার বদলির বিষয়। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেব না।” এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে শিক্ষার্থীদের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, কলেজে আগে থেকেই শিক্ষকসংকট রয়েছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগ না দিয়েই একযোগে সাতজন শিক্ষককে বদলি করায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ফেসবুকে মনির সিঙ্গার নামে একজন লিখেছেন, “মহসিন স্যারের মতো ভালো শিক্ষকরা আছেন বলেই ছাত্র-ছাত্রীরা কিছু ইংরেজি শিখতে পারছে। তাকে কুমিল্লা থেকে অন্যত্র বদলি করলে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে পিছিয়ে পড়বে।”

শাহ আমান উদ্দিন মাহমুদ নামে আরেকজন লেখেন, “কুমিল্লা শহরে ইংরেজি শিক্ষকের কথা বললেই আজও দুজনের নাম মাথায় আসে—জুবাইদা ম্যাম ও মহসিন স্যার। মহিলা কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রে পানি ওঠার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করা কলেজের জন্য বড় ক্ষতি। মহসিন স্যারের মতো জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বরগুনার মতো দূরবর্তী জেলায় বদলি করা সত্যিই বিস্ময়কর।”

অন্যদিকে শাহেদ বাবু মন্তব্য করেন, “যিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, তাকে দূরে বদলি করলেও মানুষ তাকে ভুলবে না। তিনি সবসময় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসার মানুষ হয়েই থাকবেন।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহার ও পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

আরও পড়ুন