শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পরীক্ষা চলাকালে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে চ্যাটজিপিটি দিয়ে নকল

ঢাবি প্রতিনিধি

Rising Cumilla - Cheating with ChatGPT by saying he went to the toilet during the exam
প্রতীকী ছবি/সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যাপ ‘চ্যাটজিপিটি’ ব্যবহার করে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের এক নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্যকে শাস্তির আওতায় এনেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।  

অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. ফেরদাউস। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি তৎকালীন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ‘পরীক্ষা + ১’ মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। ‘পরীক্ষা +১’ বলতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী যে পরীক্ষায় অপরাধ করেছেন, সেটি বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী আরও একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। অর্থাৎ ওই শিক্ষার্থীকে পরবর্তী এক বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এর ফলে তার সংশ্লিষ্ট কোর্সটির (১০৭ নম্বর কোর্স) পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী ১টি পূর্ণ শিক্ষাবর্ষ বা সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ, আগামী ১ বছর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত কোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১০৭ নম্বর কোর্সের রিটেক পরীক্ষা চলাকালীন আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে অভিযুক্ত ফেরদাউস শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে পরীক্ষার হল থেকে বের হন। এরপর বিভাগের করিডরে গিয়ে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন সংগ্রহ করে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন। ওই সময় দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরবর্তীতে জব্দ করা ফোনের সার্চ হিস্ট্রি পরীক্ষা করে দেখা যায়, পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলোই হুবহু সেখানে অনুসন্ধান করা হয়েছে। জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় দায়িত্বরত শিক্ষক নিয়ম অনুযায়ী তার খাতা রিপোর্ট করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠান।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিষয়টিকে শৃঙ্খলা পরিষদে পাঠানো হয়। গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে ৩১ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শাস্তির এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরীক্ষার হলে একজন নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধির এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই এই ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত সহায়তাকারী অন্য শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।সেইসাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একাডেমিক অসততার এই ঘটনায় শুধুমাত্র ‘পরীক্ষা + ১’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়াও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, একই সিন্ডিকেট সভায় পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও বিভিন্ন অপরাধের দায়ে মো. ফেরদাউসসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মোট ৬৪ জন শিক্ষার্থীকে ‘পরীক্ষা + ১’, ‘পরীক্ষা +২’ ও ‘পরীক্ষা +৩’—এই তিন ভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন