শনিবার ১ আগস্ট, ২০২৬

আধুনিক জীবনযাত্রায় মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

RisingCumilla -Many children are being deprived of breast milk due to modern lifestyles- Health Minister
আধুনিক জীবনযাত্রায় মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী/ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে অনেক নবজাতক প্রয়োজনীয় মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এ প্রবণতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য উদ্বেগজনক।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় পরিবারে শিশুর লালন-পালন ও মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সচেতনতা ছিল, আধুনিক জীবনধারার পরিবর্তনের সঙ্গে তা অনেকটাই কমে গেছে। জন্মের পরপরই নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা, কর্মব্যস্ততা এবং পরিবর্তিত জীবনযাত্রার কারণে অনেক মা সময়মতো শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারছেন না। ফলে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

তিনি বলেন, জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই নবজাতককে শালদুধ পান করানোর কোনো বিকল্প নেই। মায়ের দুধই শিশুর সর্বোত্তম ও প্রাকৃতিক খাদ্য। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মায়ের স্নেহ, স্পর্শ ও মাতৃদুগ্ধ শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, পরিবারে অশান্তি, অবহেলা কিংবা শিশুকে দীর্ঘ সময় মায়ের কাছ থেকে দূরে রাখার নেতিবাচক প্রভাব তার আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। নিয়মিত মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা গেলে তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং সংক্রামক রোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে।

তিনি অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সুষম খাদ্যের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিশুর খাদ্য হিসেবে মায়ের দুধের পরিবর্তে বাজারজাত বিকল্প খাদ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনার মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন