শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

অপ্রতীম হত্যা মামলায় চার্জশিট, অভিযুক্ত ৪ জন

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

অপ্রতীম হত্যা মামলায় চার্জশিট, অভিযুক্ত ৪ জন
অপ্রতীম হত্যা মামলায় চার্জশিট, অভিযুক্ত ৪ জন/ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফর রহমান।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ, কামরুল হাসান এবং সিয়ামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ফাহাদ ও কামরুলের বয়স যথাক্রমে ১৫ ও ১৬ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন বনে যায়। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সিয়ামের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে।

ছেলেকে হারিয়ে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা জানিয়ে কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ছেলেকে ঘিরেই তাঁর বাঁচার স্বপ্ন ছিল, যা হত্যাকারীরা কেড়ে নিয়েছে। তিনি মামলার দ্রুত বিচার এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। বয়সের কারণে যেন অভিযুক্তরা শাস্তি এড়িয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

আরও পড়ুন