
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরিকল্পিত শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩০ জিএমটি সময় অনুযায়ী বেড়ে দাঁড়ায় ১০৬ দশমিক ৯৯ ডলার প্রতি ব্যারেল। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তা তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতি তৈরি করেছে।
তবে তেলের দাম বাড়লেও এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) লেনদেনের শুরুতে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০.৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিকল্পিত কূটনৈতিক সফর বাতিল করেছেন বলে জানা গেছে। তার বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফরও স্থগিত করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি বৈঠক ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সংকট নিরসনে রাশিয়ার সহায়তা চাইতে মস্কো সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি ওমান সফর করেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’কে ঘিরে। ইরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের হুমকির ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মাত্র ১৯টি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে, যেখানে আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করত।
বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে এই নৌপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নতুন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা









