
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জন্য দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার কেনার প্রকল্প বাদ দিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৫৮৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে বড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সড়ক, স্বাস্থ্য, পানি ও বিদ্যুত খাতে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অনুমোদনের জন্য মোট ১১টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়।
এর মধ্যে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ের বিএসসির জন্য ৪০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার কেনার প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকল্পটি আরও যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য, নৌপরিবহন, সড়ক, পানি সম্পদ, স্থানীয় সরকার, প্রাণিসম্পদ ও বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি কয়েকটি চলমান প্রকল্পের সংশোধনীও রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেলে নতুন স্থাপনা
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণে ১ হাজার ১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ ১ হাজার টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আগস্ট ২০৩০ মেয়াদে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
এ ছাড়া দেশের ১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন পেয়েছে। এতে ২০১ কোটি ৭০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১ হাজার ৬৩০ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
সড়ক ও পানি সম্পদে বড় বিনিয়োগ
সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীনে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়াতে ১১৫ কোটি ৭৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৭ কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বা অনুদান ১০৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষায় ২৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণে ৫৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ের পৃথক প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকার গোড়ানচটবাড়ী রিটেনশন পন্ড ও তুরাগ নদীর সুরক্ষা ও সংরক্ষণে ৫৬৭ কোটি ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৪২ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বা অনুদান ৪২৪ কোটি ৭২ লাখ ৬১ হাজার টাকা।
গ্রামীণ সড়কে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদি এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ৪৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয় কমানোর প্রস্তাব ছিল।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ১০১ কোটি ৮২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
ঢাকার ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীও অনুমোদিত হয়েছে। এতে ৬২৭ কোটি ২৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় ২ হাজার ৮৯৯ কোটি ৭১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










