
দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী আসিফ আকবর। গানের পাশাপাশি স্যোশাল মিডিয়ায় তিনি সবসময়ই বেশ সরব থাকেন। শেয়ার করেন তার ক্যারিয়ার, দেশের অর্থনীতি এবং মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও লিখেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ফেসবুকে শেয়ার করা আসিফ আকবরের স্ট্যাটাসটি রাইজিং কুমিল্লার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল:
শিশুরা কিভাবে নৃশংস হওয়া শিখে সেটা শৈশবেই দেখেছি। বিশ্বস্ত কুকুরের গায়ে গরম পানি আর ভাতের মাড় ঢেলে ট্রেনিং শুরু, লাঠিপেটা বা দূরদূর ভাবতো আছেই। বিড়াল মুখ দিবে এজন্য খাবার শিকেয় ( ছিক্কা ) ঝুলিয়ে রাখা, বিড়ালের হাড্ডি খুব শক্ত, কাল বিড়াল অপয়া, সুতরাং পিষে মেরে ফেলো, ইদানীং তো চোখ মুখও ক্ষতবিক্ষত করে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।
ক্ষেত খামারের কাজে কিংবা বোঝা টানা গরু মহিষ ঘোড়া পেটাতে পেটাতে হাত এমনিতেই পাকা হয়ে যায়।
নিরীহ মেছোবাঘ, গুইসাপ, শিয়াল, বেজি, সাপ পিটিয়ে হত্যা করা হয় উৎসবমুখর পরিবেশে। খাঁচায় বন্দী পশুপাখী বিক্রি ধর্মে হারাম হলেও এসব কার্যক্রম চলে ওপেনলি। ছোট বাচ্চাসহ গৃহকর্মী থাকলে তার উপর টর্চার করা একটা ফ্যাশন। বাংলাদেশের মক্তব স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় এতো শিক্ষা দেয়ার পরও অমানুষই জন্ম নিচ্ছে জ্যামিতিক হারে।
পারিবারিক সামাজিক নৃশংসতায় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশই বিশ্বসেরা বুনিয়াদী প্রশিক্ষণের হেডকোয়ার্টার। এদেশে বিনোদনকে হারাম বলা হয়, ধর্ষন বলাৎকার মাদক সুদ ঘুষ দূর্নীতির ব্যাপারে মুখে কুলুপ আঁটা থাকে। এভাবে মানসিক বিকৃতি অটোম্যাটিক্যালি বাড়তেই থাকে।
সাগরে হাঙ্গর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রানী। পশ্চিমারা তো বিধর্মী , তারা বেহেশতে যাবেনা, জীবনভর এসব ক্রমাগত শুনে আসছি মাইকে। অথচ ওরা সেই হাঙ্গরকে বাচ্চাদের সামনে তুলে ধরেছে বেবিশার্ক, মাম্মি শার্ক গান আর ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে।
বাচ্চারা ট্যাব দেখে মানবতা শিখে, তারা প্রানীদের প্রতি সদয় হওয়া শিখে বড় রয়। রাস্তার পাশে কিংবা ডাস্টবিনে পশুপাখীর খাবার হয় অমানুষদের ফেলে যাওয়া সদ্যজাত শিশু। কল্যানকর বিশ্বব্যবস্থার পুরোপুরি উল্টোদিকে মার্চ করছে বাংলাদেশ। ভোটের হিসাব আর অপরাজনীতির খপ্পরে আটকে গেছে জনজীবনের লাভ লোকসানের হিসেব।
অটোরিক্সার দৌরাত্ম্যে ঘরে ঘরে মৃত্যূ আর পঙ্গুত্ব স্বাভাবিক ঘটনা হলেও রাষ্ট্র নির্বিকার। দেশে দীর্ঘদিন ধরে আইয়ামে জাহেলিয়াতের ট্রেইলার চলে আসছে, পুরো সিনেমা শেষ হলে দেশটা অসভ্যদের জাহান্নামেই পরিনত হবে- এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।










