বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট, ২০২৬

দেশে পোলট্রি মুরগির মাংসে পাওয়া গেল মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - broiler chiken
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসে আন্তর্জাতিক নিরাপদ মানের তুলনায় অতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই এ সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পোলট্রি নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করা ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয় সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে, যেখানে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি যাচাই করা হয়। পরীক্ষায় অনুসরণ করা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্ধারিত মানদণ্ড।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্লেষিত নমুনার একটি অংশ সংগ্রহ করা হয় বাজারের বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এবং বাকি অংশ নেওয়া হয় বিক্রির উপযোগী পোলট্রি ফার্মের মুরগি থেকে।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, কয়েকটি নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের মাত্রা নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি ছিল। বিশেষ করে বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নিরাপদ সীমা অতিক্রমকারী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে। তুলনামূলকভাবে, ২০২১-২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এই হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

গবেষকদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পাওয়া এই উচ্চমাত্রার উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, অনেক ক্ষেত্রে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্তও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গবেষণার অন্যতম গবেষক অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারি খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাব-এর মাধ্যমে পরিচালিত এই গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (UKRI) গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।

আরও পড়ুন