
লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার ছয়টি থানা এলাকায় পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে ১৩৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর সদর, চন্দ্রগঞ্জ, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর থানার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৭৮৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
এর মধ্যে আগে আটক ৬৫৩ জনের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ৪৪৭ জনকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর ২০৬ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, লক্ষ্মীপুরে অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রে সদস্য সংখ্যা এক হাজারের বেশি বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব চক্রের সদস্যদের নানা কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করা, নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ানোসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলার সব থানা এলাকায় সমন্বিতভাবে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
তবে এখনো পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আটক কিশোরদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে এবং তা এখনো চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ৭৮৮ জনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ২০৬ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের মূল আশ্রয়দাতাদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।









