বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Lebanon became the first country in the Middle East to abolish the death penalty.
মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন/ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করেছে লেবাননের সংসদ। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আইনি সিদ্ধান্ত নিল দেশটি। নতুন আইনে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও কঠোর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) লেবাননের ১২৮ সদস্যের সংসদে অধিকাংশ আইনপ্রণেতা মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পক্ষে ভোট দেন। কয়েকটি সংশোধনী আনার পর আইনটি অনুমোদন করা হয়। তবে হেজবুল্লাহ-সমর্থিত সংসদীয় জোট মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পক্ষে ভোট দেয়নি।

সংসদে উপস্থিত লেবাননের বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এই সিদ্ধান্তকে দেশের জন্য ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

লেবাননে ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ রয়েছে। অর্থাৎ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। তবে এই সময়ে আদালত বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে এসেছে। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৮৫ জন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মরায়েফ বলেন, এটি লেবাননে মানবাধিকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং বড় অর্জন।

তিনি বলেন, দুই দশকের বেশি সময় ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ার পর এবার সেই স্থগিতাবস্থাকে স্থায়ী আইনি সুরক্ষায় রূপ দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে জীবন রক্ষার অধিকার আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড বিলোপের বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে লেবাননও যুক্ত হলো।

তবে নতুন আইনে কঠোর সশ্রম কারাদণ্ড কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, নতুন শাস্তির বিস্তারিত বিষয় এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। লেবাননের আইনে সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা খুব কমই কার্যকর হয়েছে। দেশটির দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট, কারাগারগুলোর অতিরিক্ত ভিড় এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি এর অন্যতম কারণ।

এদিকে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পাশাপাশি লেবাননের সংসদে একটি বিতর্কিত সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়েও আলোচনা চলছে। ১৯৯০ সালে ১৫ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমা আইন হতে পারে। আইনটি পাস হলে সহিংসতার ঘটনায় দণ্ডিত কিছু ব্যক্তির সাজা কমানো বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে হামলায় নিহত লেবাননের সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা এই আইনের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের কেউ কেউ বলছেন, স্বজন হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে সাজা কমানো হলে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।

সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন