
বিশ্ব ফুটবলের নতুন রাজা স্পেন। রুদ্ধশ্বাস ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে লা রোজারা। নিউইয়র্কের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলেই ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল, আক্রমণ ও সুযোগ তৈরিতে আধিপত্য দেখায় স্পেন। মাত্র পঞ্চম মিনিটেই লামিনে ইয়ামাল দলকে এগিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন। তবে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্দান্ত প্রতিরোধে গোলবঞ্চিত হয় স্পেন।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনাকে কার্যত নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে স্পেন। বিরতির আগে বলের দখলে ছিল স্পেনের ৬৫ শতাংশ, যেখানে আর্জেন্টিনা ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। কোচ লিওনেল স্কালোনি একাধিক পরিবর্তন আনলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে স্পেন। একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রাখে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে। তবে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্দান্ত গোলকিপিং ম্যাচটিকে দীর্ঘ সময় গোলশূন্য রাখে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের করা একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল হলে হতাশ হয় স্পেন। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর আক্রমণ থেকে নিকো উইলিয়ামস বল বাড়িয়ে দেন ফেরান তোরেসের কাছে। সুযোগ হাতছাড়া করেননি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির।
শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক উনাই সিমনের দৃঢ়তায় আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি লিওনেল মেসির দল।
এই জয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলল স্পেন। অন্যদিকে, শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো আর্জেন্টিনাকে।











