
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাসাবাড়ি এলাকার আশক আলী ব্যাপারী বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরে মাদকাসক্ত যুবক সোহেল হোসেন (৩২) নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। তার ঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল হোসেন এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। মাদকের টাকা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার প্রায়ই বিরোধ হতো। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ভোররাতে তিনি নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
এতে ১১টি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে যায়। ঘরবাড়ির পাশাপাশি আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় মালামালও পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন অনেকটাই নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
খবর পেয়ে রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
এদিকে, আগুন দেওয়ার অভিযোগে সোহেল হোসেনকে স্থানীয়রা আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রনজিত কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূইঁয়া বলেন, মাদকাসক্ত যুবক সোহেল পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ১১টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।







